অস্ট্রেলিয়ার এই ভরাডুবি কেন

· Prothom Alo

ক্রিকেট জগতে অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে একটা কথা বেশ প্রচলিত। সারা বছর তারা যেমনই খেলুক না কেন, বড় মঞ্চের অস্ট্রেলিয়া বরাবরই শক্তিশালী। বছরজুড়ে ফর্মে নেই এমন খেলোয়াড়ও এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাক লাগিয়ে দেন, দলকে একাই টেনে নিয়ে যান পরবর্তী পর্বে। এমন ঘটনা অজি খেলোয়াড়েরা ঘটিয়েছেন অহরহ। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ যেন একটা ভিন্ন চিত্রনাট্য এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে অজিদের সামনে। যে চিত্রনাট্যে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায়ের টিকিট নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।

মিচেল মার্শের দল এবার বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ‘বি’ গ্রুপ থেকে জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড আর ওমানকে নিয়ে—প্রতিপক্ষ দেখে যে কেউ সহজেই অনুমান করে নিয়েছিল, অজিদের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার পথটা কতটা সহজ! এতটাই সহজ ছিল যে খোদ আইসিসি তাদের সুপার এইটের পথও সাজিয়ে ফেলেছিল, সেটাও অজিদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ধরে। সর্বসাকল্যে রানার্সআপ। আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে আর ওমানের বিপক্ষে তো লড়াইয়ের প্রশ্নই আসে না। বাকি থাকে শুধু স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। হোম অ্যাডভান্টেজ নিয়ে শ্রীলঙ্কা জিতলে দ্বিতীয় হয়েই পরবর্তী পর্বের টিকিট কাটবে অজিরা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ম্যাচেই হেরে বসল জিম্বাবুয়ের কাছে। রীতিমতো চমক দেখিয়ে ২০০৭ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নিল জিম্বাবুয়ে। পরের ম্যাচে অজিরা হোঁচট খেয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও। টানা দুই ম্যাচ হেরে অজিরা অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিল জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচের দিকে। সেই ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে সব আশা পণ্ড হয়ে গেল ২০২১ বিশ্বকাপজয়ীদের। প্রথম পর্বেই জিম্বাবুয়ে-শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে অস্ট্রেলিয়ার হাতে উঠেছে বাড়ি ফেরার টিকিট। কিন্তু এমন দুর্দশার মুখোমুখি কেন হলো অজিরা?

Visit orlando-books.blog for more information.

হকি স্টিক থেকে ক্রিকেটের ব্যাট: ম্যাডসেনের দুই বিশ্বকাপ খেলার গল্প

বোলিং লাইনআপে অভিজ্ঞতার অভাব

হতাশ করেছেন নাথান এলিস

বিশ্বকাপে আসার আগে থেকেই কিছুটা আশঙ্কা করা যাচ্ছিল এই ভরাডুবির। কারণ, একের পর এক দুঃসংবাদ পাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথমেই মূল দল থেকে ছিটকে যান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। এরপর ফর্মে থাকা বোলার হশ হ্যাজেলউড। তার ওপর অনেক দিন ধরেই টি-টুয়েন্টি দলে নেই মিচেল স্টার্ক। সব মিলিয়ে পুরো ভঙ্গুর এক বোলিং লাইনআপ ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু দলটার নাম অস্ট্রেলিয়া, দু–একটা চোটে তারা ভেঙে পড়বে—এটা ভাবেনি কেউই। কামিন্স-হ্যাজলউডের জায়গায় সুযোগ পাওয়া নাথান এলিস কিংবা হাভিয়ের বার্টলেট ঘরোয়া লিগে যতই ভালো করুন না কেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি।

ব্যাট হাতেও করেছেন মাত্র ২৪ রান। অস্ট্রেলিয়া দল নিজেও জানে, তাদের দিয়ে ঠিক কাজটা হচ্ছে না। তাই তো অদলবদল করিয়ে খেলানো হয়েছে বিশ্বকাপে।

যার প্রমাণ মিলেছিল বিশ্বকাপের ঠিক আগে শেষ হওয়া পাকিস্তান সিরিজেই। অস্ট্রেলিয়া যেখানে প্রথম ৬ ওভারেই প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে ফেলত, সেখানে এই দুই বোলার মিলে পাকিস্তান সিরিজে ৩ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। তখনই একটা চাপা শঙ্কা জেগেছিল ক্রিকেটবোদ্ধাদের মনে। আর বিশ্বকাপে এই দুই বোলার প্রথম ৬ ওভারে নিয়েছে মোট ৪ উইকেট। এলিস তাও দুই ম্যাচে ৪ উইকেট পেয়েছেন, বার্টলেট সেটাও পাননি।

শুরুর আগেই কত কাণ্ড বিশ্বকাপে

অলরাউন্ডারে ভরপুর দল

২০০৭ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, কুপার কনোলি, ক্যামেরন গ্রিন, মার্কাস স্টয়নিস—কাগজে–কলমে বোলিং আর ব্যাটিং কোনো দিক দিয়েই কম যান না এই চারজন। ভালো ভালো অলরাউন্ডার দিয়ে সাজানো অস্ট্রেলিয়া দল। কিন্তু সেটাই হিতে বিপরীত হয়েছে। কারণ, তাঁদের চারজনের কেউই স্পেশালিস্ট ব্যাটার কিংবা বোলার নন। বরং প্রত্যেকেই কোনো না কোনো একটা দিকে ভালো। ম্যাক্সওয়েল ব্যাট হাতে দুর্দান্ত হলেও বল হাতে তেমন সফল নন। একইভাবে কুপার কনোলি বল হাতে পারদর্শী হলেও ব্যাট হাতে একেবারেই ভালো করেননি। মার্কাস স্টয়নিস ব্যাটে–বলে সমান অবদান রাখতে পেরেছেন। এ ছাড়া বাকিরা শুধু দলের জায়গা নষ্ট করেছেন।

বিশ্বকাপে দলের অধিনায়ক হয়ে আসা মিচেল মার্শ মাঠ ছেড়েছেন চোট নিয়ে। একের পর এক চোটে ব্যাটিং লাইনআপের প্রথম পাঁচে নিয়মিতই অদলবদল এসেছে।

যেমন ক্যামেরন গ্রিন। নামে অলরাউন্ডার হলেও বল হাতে তাঁকে পাওয়াই যায়নি। ব্যাট হাতেও করেছেন মাত্র ২৪ রান। অস্ট্রেলিয়া দল নিজেও জানে, তাদের দিয়ে ঠিক কাজটা হচ্ছে না। তাই তো অদলবদল করিয়ে খেলানো হয়েছে বিশ্বকাপে। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। আয়ারল্যান্ড আর ওমানের বিপক্ষেই জয় তুলতে পেরেছে তারা।

অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেকে প্রমাণ করলেন রুট

ব্যাটিং অর্ডারে দুর্দশা

ব্যাটিং নিয়ে দুর্দশা ছাড়ছে না অস্ট্রেলিয়ার পিছু

বিশ্বকাপে দলের অধিনায়ক হয়ে আসা মিচেল মার্শ মাঠ ছেড়েছেন চোট নিয়ে। একের পর এক চোটে ব্যাটিং লাইনআপের প্রথম পাঁচে নিয়মিতই অদলবদল এসেছে। ব্যাটিং নিয়ে যে দুশ্চিন্তা শুরু থেকে তাড়া করেছিল অজিদের, সেটা সামাল দেওয়া যায়নি শেষ পর্যন্ত। দলে পরীক্ষিত ব্যাটার ছিলেন বটে; কিন্তু এত নড়াচড়ার মধ্যে নিজেকে মেলে ধরার আর সুযোগ পাননি। শেষ পর্যন্ত স্টিভ স্মিথকে উড়িয়ে আনলেও তাঁকে আর খেলানোই সম্ভব হয়নি। তার আগেই ঘরে ফেরার টিকিট কেটেছে অস্ট্রেলিয়া।

নিজেদের জায়গা ঠিকঠাক বুঝতে না পারা, চোট আর বোলিং-ব্যাটিং লাইনআপে হযবরল অবস্থার সুযোগ নিয়েছে জিম্বাবুয়ে আর শ্রীলঙ্কা। ফলে যেটা কেউ ভাবেনি, সেটাই হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই। আগামী বিশ্বকাপের স্বাগতিকদের এমন ভরাডুবি যেন আরেকবার নিশ্চিত করে দিল, ক্রিকেট বড়ই অনিশ্চয়তার খেলা।

সাত সাগর পাড়ি দিয়ে সৈকত যেভাবে আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার

Read full story at source