বিদায় বুদাপেস্ট, এবারের মতো

· Prothom Alo

বিদায়দিনের বিষণ্ণ সকাল। ইতিহাসময় বুদাপেস্টের আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে মনে হলো—এই শহর তার প্রাচীন গির্জা, স্মৃতি আর সৌন্দর্য দিয়ে চিরকাল ডাক দিয়ে যাবে।

Visit chickenroadslot.lat for more information.

১৯ সেপ্টেম্বর। সকালটা কেমন বিষণ্ণ মনে হলো। ম্যারাথন কর্তৃপক্ষ আগেই আমার কাছ থেকে জেনে রেখেছিল কখন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেব। আমি বলেছিলাম, ঠিক সাড়ে ১২টায়। তো আমি এমনিতেই অনেক ভোরে উঠি। এদিনও ভোরে উঠে লেখালিখি সেরে নিচে গেলাম নাশতা করতে। অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা আগেই গেলাম। যেন নাশতা সেরে আরেকটু ঘোরাঘুরি করা যায়।

নাশতা শেষ করে যখন ঘুরতে বেরোব, তখন অন্যদের সঙ্গে দেখা। এলেনাকে বিদায় জানালাম। পাওলাকেও। আহমেদ শাওকির সঙ্গেও দেখা হলো। সুলতান। যাঁর যাঁর সঙ্গে দেখা হলো, সবাইকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে গেলাম শেষ মুহূর্তে ঘোরাঘুরি করতে।

এবার হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম খোলা চত্বরে। দেখি, সেখানে দাঁড়িয়ে রানি সিসির একটি অপরূপ ভাস্কর্য। তিনি অস্ট্রিয়ার সম্রাজ্ঞী এবং হাঙ্গেরিয়ানদের অতি প্রিয় রানি। সিসি নামে পরিচিত হলেও তাঁর পোশাকি নাম ছিল এলিজাবেথ। তিনি অস্ট্রিয়ার সম্রাট প্রথম ফ্রানৎস জোসেফের স্ত্রী ছিলেন। এলিজাবেথ রানি হন ১৮৬৭ সালে

রানি সিসির মূর্তি

হাঙ্গেরিয়ানদের কাছে সিসির এত জনপ্রিয়তার কারণ, তিনি মিউনিখে জন্মগ্রহণ করলেও পরে হাঙ্গেরিয়ান ভাষা শেখেন এবং এই জনপদের রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের মতের পক্ষে সমর্থন দেন। বলা হয়, তাঁর নেপথ্য চেষ্টার ফলেই এই অঞ্চলে দ্বৈত সাম্রাজ্য অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান মনার্কি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; কিন্তু ১৮৯৮ সালে জেনেভায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এমনিতেই গোটা ইউরোপে সিসি ছিলেন সৌন্দর্য আর স্বাধীনতার প্রতীক; কিন্তু তাঁকে হত্যার পর তিনি হয়ে ওঠেন রোমান্টিক ও ট্র্যাজিক চরিত্রের আইকন। বুদাপেস্টে সম্রাজ্ঞী সিসির অনেক মূর্তি ও স্মৃতি সংরক্ষিত রয়েছে। এটা প্রমাণ করে হাঙ্গেরির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে সিসি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে এখনো জলজ্যান্ত। আরও কিছুক্ষণ রাস্তার ধুলো মেখে, আমি বেলা ১১টার ভেতরেই হোটেলে ফিরে এলাম। বাড়ি ফেরার গোছগাছ করতে আমার চরম আলস্য লাগে। বিদায়ের বিষাদ যোগ হয় বলেই হয় তো এমনটা হয়।

সিনেমার জন্য আমার বুদাপেস্টে আসা। সিনেমার দৌলতে একটি দেশের মানুষ ও তাদের সমাজকে কাছ থেকে দেখতে পাওয়া অতি আনন্দের ব্যাপার। লোকে বলে, সিনেমা সমাজের প্রতিচ্ছবি, আমার কাছে সিনেমার মাধ্যমে সমাজকে অবলোকন, নিজের চোখে। তাই এই সিনেমা সফরকে আমি ভালোবাসি।

বুদাপেস্টে এমন প্রাচীন গির্জার সংখ্যা অনেক

ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আধুনিকতাকে বুকে ধারণ করে থাকা বুদাপেস্টকে দুপুরবেলা বিদায় জানিয়ে রওনা দিই বিমানবন্দরের দিকে। দানিউব নদী পেরিয়ে যখন বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছি, তখন আকাশ সূর্যালোকে ঝলমল করছে। যেন আমাকে পুনর্বার ফিরে আসার নিমন্ত্রণ দিচ্ছে প্রকৃতি, উদার হাস্যোজ্জ্বল মুখে। ফিপ্রেসির বার্ষিক সম্মেলন যদি এখানে হয় আবার এবং আমার দিক থেকে যদি সব ঠিক থাকে, হয় তো এই নিমন্ত্রণ রক্ষিত হবে। এখনকার মতো তাহলে বিদায় বুদাপেস্ট। (শেষ)

ছবি: লেখক

হিরো ইমেজ: উইকিপিডিয়া

Read full story at source