যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন করলে দেশের অনেক খাত বিপদে পড়বে: মাহা মির্জা
· Prothom Alo

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘অন্যায্য’ বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ সমাবেশ হয়। সমাবেশে জোটের নেতারা বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন সংসদে এই বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে আলোচনা করা হয় এবং চুক্তিটি বাতিলের পক্ষে জনমত গঠন করা হয়।
Visit forestarrow.help for more information.
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে এবং সেটাও নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে তড়িঘড়ি করে। নির্বাচন হওয়ার আগে অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করেছে, সেই চুক্তি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের পোলট্রি খাত, ডেইরি খাত, ফার্মেসি, ওষুধশিল্প, কৃষি খাত, মৎস্য খাত, পাটকল-চিনিকলসহ রাষ্ট্রায়ত্ত সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিপদে পড়বে এবং আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের শিকার হবে।’
মাহা মির্জা আরও বলেন, ‘এখন যেহেতু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আছে, তাই বিএনপি সরকারকেই প্রমাণ দিতে হবে যে তারা এই বাণিজ্যচুক্তির পক্ষে নাকি বিপক্ষে। আগামী ১২ তারিখে সংসদ বসবে। আমরা আশা করছি, অবিলম্বে তাঁরা এই বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি সংসদে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে সার্বভৌমত্ব হরণকারী এই চুক্তি বাতিলের জন্য জনমত গঠনসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবেন।’
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘ইরানে যখন আমেরিকা হামলা চালাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ সরকারকে আমরা মিনমিন করে ইরানের বিপক্ষে বিবৃতি দিতে দেখেছি। এ দেশের মানুষের পক্ষে সরকার কোনো অবস্থান নিতে পারেনি। উল্টো একটি শিক্ষিত গোষ্ঠী এর সাফাই গাইতে দাঁড়িয়ে গেছে। তারা বলতে চায়—বাংলাদেশের সক্ষমতা নেই, এটা নেই, ওটা নেই। এমন কথাবার্তা বলে তারা সাম্রাজ্যবাদী ও পা–চাটা বিবৃতিকে সমর্থন জোগায়।’
জাবির আহমেদ আরও বলেন, ‘যখনই বাংলাদেশের সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন আসে, তখনই আমরা এই গোষ্ঠীকে ওই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পক্ষে থাকতে দেখি। আমরা দেখলাম, আমেরিকার সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি করা হয়েছে, সেটার ক্ষেত্রেও তারা কোনো বিরোধিতা করছে না। অর্থাৎ বাংলাদেশকে দীর্ঘ মেয়াদে পঙ্গু বানিয়ে রেখে এবং জাতীয় সক্ষমতা তৈরি না করে তারা মূলত আমেরিকার স্বার্থই হাসিল করছে।’
বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার সংগঠক নাঈমুদ্দীন বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে নতুন একটি দল ক্ষমতায় এল। অনেকেই বলেন, বামপন্থীদের ক্ষমতা নেই, তারা অল্প কিছু মানুষ।’
এ সময় বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো এত বড় দল। আমেরিকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় জমায়েতটি আপনাদের কাছ থেকে আমরা দেখতে পেতাম। তাহলে বোঝা যেত আপনারা মার্কিনবিরোধী ও জনগণের পক্ষের শক্তি। কিন্তু আমরা তা দেখতে পাই না।’
নাঈমুদ্দীন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতের বিরুদ্ধে নানা কথা বলে। কিন্তু তারাই গোপনে তাদের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে।’
উল্লেখ, গত ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি বাণিজ্যচুক্তি সই হয়। এতে দেশীয় পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ২০ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে।