চলছে মাইডাস 'সিএমএসএমই ঈদ মেলা ২০২৬', বিশেষ আকর্ষণ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও তরুণদের তৈরি পণ্য

· Prothom Alo

রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে চলছে তিনদিনব্যাপী ‘মাইডাস সিএমএসএমই ঈদ মেলা ২০২৬’। মাইডাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা চলবে ৭ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত।

ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পণ্যের বৈচিত্র্য, নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বার্তা নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে চলছে তিনদিনব্যাপী ‘মাইডাস সিএমএসএমই ঈদ মেলা ২০২৬’। মাইডাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা চলবে ৭ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত। প্রতিদিন তা সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

Visit arroznegro.club for more information.

ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে চলছে তিনদিনব্যাপী ‘মাইডাস সিএমএসএমই ঈদ মেলা ২০২৬’৫মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করা হয়

৫মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাইডাস বোর্ডের চেয়ারম্যান পারভীন মাহামুদ, ডিরেক্টর জাহিদা ইস্পাহানি, তাপসী আফরিন ইসলাম, এবং ড. এস. এম. আকবার, যিনি মাইডাস বোর্ডের পরিচালক ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিউরশিপের কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রঙিন ও নান্দনিক স্টলে দেশীয় পণ্যের সমাহারে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো মেলার পরিবেশ। এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছেন প্রায় ৫৬ জন তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা। পোশাক, গয়না, হস্তশিল্প, পরিবেশবান্ধব পণ্যসহ নানা ধরনের সৃজনশীল সামগ্রী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।

এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছেন প্রায় ৫৬ জন তরুণ ও নারী উদ্যোক্তামেলার একটি বিশেষ দিক হলো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও তরুণদের নিয়ে কাজ করা সেবামূলক সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ

এই মেলার একটি বিশেষ দিক হলো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও তরুণদের নিয়ে কাজ করা সেবামূলক সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলে অটিজমসহ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও তরুণদের তৈরি পোশাক, গয়না ও সৃজনশীল নানা পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে, যা পুরো আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

পুরো আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এই উদ্যোগ

এ উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের প্রতিভা তুলে ধরা এবং সমাজে ইতিবাচক অন্তর্ভুক্তির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও বেশ সাড়া জেগেছে এ নিয়ে।

মেলায় কল্পতরুর স্বত্বাধিকারী শাম্মী আখতার বলেন , এ ধরনের আয়োজন দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।

মেলায় কল্পতরুর স্বত্বাধিকারী শাম্মী আখতার

এখানে তাঁরা নিজেদের কাজ সরাসরি মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারছেন, যা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরতেও ভূমিকা রাখছে।

দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরতেও ভূমিকা রাখছে এই মেলামেলায় এমন কিছু পণ্য পাওয়া যাচ্ছে যা সাধারণ বাজারে সহজে পাওয়া যায় না

মেলায় কেনাকাটা করতে আসা ব্যাংকার সামিরা রহমান বলেন, মেলায় এমন কিছু পণ্য পাওয়া যাচ্ছে যা সাধারণ বাজারে সহজে পাওয়া যায় না, যেমন প্রাকৃতিক রঙে তৈরি বিশেষ শাড়ি বা পরিবেশবান্ধব নানা সামগ্রী।

মেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা তাপসী আফরিন ইসলাম জানান , মাইডাস সবসময়ই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে। উদ্যোক্তাদের সম্মানের সঙ্গে নিজেদের জীবন গড়ে তুলতে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি সৃজনশীল উদ্যোগ, দেশীয় পণ্য এবং পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সৃজনশীল উদ্যোগ, দেশীয় পণ্য এবং পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এখানেএবারের মেলায় নতুন সংযোজন হিসেবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের তৈরি সৃজনশীল পণ্য

এবারের মেলায় নতুন সংযোজন হিসেবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের তৈরি সৃজনশীল পণ্য নিয়ে তিনটি সংগঠন অংশগ্রহণ করছে। সংগঠনগুলো হলো সোয়াস স্কুল অব অটিজম, রংধনু বন্ধুজন, হোপ অটিজম ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এবং ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বর্ণালী।

এছাড়া মেলায় রাখা হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘পিস কর্নার’। এটি এমন একটি স্বস্তির জায়গা, যেখানে উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীরা কিছুক্ষণ থেমে কথা বলতে, কারো কথা শুনতে বা নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে পারবেন।

য়াছে বাচ্চাদের ছবি আঁকার ব্যবস্থাতাহার-এর স্টলে বৈচিত্র্যময় গয়নার সম্ভার

মেলা শেষে উদ্যমী ও সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে থাকবে বিশেষ পুরস্কারের আয়োজন। আয়োজকদের আশা, এই মেলার মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তারা নতুন অনুপ্রেরণা পাবেন এবং তাদের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে।

ছবি: হাল ফ্যাশন ও ফেসবুক

Read full story at source