বরিশালে কান্না থামাতে অপারেশন থিয়েটারে শিশুকে থাপ্পড়, ওটি বয় বরখাস্ত
· Prothom Alo

খেলতে গিয়ে হাতের একটি আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শিশুটি তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলে ইনজেকশন দেওয়ার সময় ভয়ে সে জোরে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় অপারেশন থিয়েটারের কর্মী (ওটি বয়) শিশুটিকে থাপ্পড় মারেন।
Visit lej.life for more information.
গত শুক্রবার রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে নির্যাতনের শিকার শিশু মো. লিমন (৮) পটুয়াখালী সদর উপজেলার পুকুরজানা গ্রামের লিটন সিকদারের ছেলে। সে স্থানীয় পুকুরজানা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী জি এম নাজমুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শিশুটির স্বজনেরা বলেন, গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটলেও চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁরা এর প্রতিবাদ করেননি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। হাসপাতাল প্রশাসন অভিযুক্ত নাজমুল হাসানকে গতকাল শনিবার চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। পাশাপাশি হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর ঈদ বোনাসসহ বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে।
শিশুটির চাচা মো. আনছার সিকদার বলেন, তাঁর ভাতিজা শুক্রবার খেলতে যায়। শাবলের আঘাতে তার ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই দিন বেলা একটার দিকে তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তির পর সারা দিন কোনো চিকিৎসা পায়নি। রাত নয়টার দিকে নার্সরা এসে জানান, লিমনকে অপারেশন থিয়েটারে নিতে হবে।
আনছার সিকদার বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি অপারেশন থিয়েটারে ছিলাম। নাজমুল হাসান নামের ওই ওটি বয় লিমনের হাতে ইনজেকশন দিতে চান। এ সময় ব্যথায় চিৎকার ও নড়াচড়া করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে লিমনের ডান গালে থাপ্পড় দেন। এতে গালে তাঁর আঙুলের ছাপ পড়ে ও চোখে রক্ত জমাট বাঁধে। চিকিৎসার স্বার্থে তখন কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে হাসপাতাল প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়।’
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত ওটি বয়কে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর ঈদ বোনাসসহ সব ধরনের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে।