নিজ শহর রাজশাহীর হেতেম খাঁ গোরস্তানে চিরনিদ্রায় শামস সুমন
· Prothom Alo

রাজশাহী—যে শহর তাঁর শিল্পযাত্রার সূচনা দেখেছিল, সেই শহরেই শেষ হলো অভিনেতা শামস সুমনের জীবনযাত্রা। স্কুলজীবনে রাজশাহী বেতারে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু, পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এ সাংস্কৃতিক চর্চা—সব মিলিয়ে শহরটির সঙ্গে ছিল তাঁর গভীর আত্মিক সম্পর্ক। সেই প্রিয় শহরেই গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেতা।
Visit sportnewz.click for more information.
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী নগরের হেতেম খাঁ গোরস্তানে দাফন করা হয় শামস সুমনকে। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই এলাকার হেতেম খাঁ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর দ্বিতীয় জানাজা।
শামস সুমনের ভাই ও সাংবাদিক রাশেদ রিপন প্রথম আলোকে বলেন, পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে রওনা দিলেও যানজটের কারণে সময়মতো রাজশাহীতে পৌঁছাতে পারেননি। আর এ কারণেই দাফন দিতে দেরি হয়।
ফিরতে চেয়েছিলেন, আক্ষেপ নিয়েই চলে গেলেন অভিনেতা শামস সুমনএর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরের আগেই ঢাকা থেকে তাঁর মরদেহ রাজশাহীতে পৌঁছায়। জোহরের নামাজের পর নগরের ঝাউতলা এলাকার মিঠুর মোড়ে হয় দ্বিতীয় জানাজা। সেখানে সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিতে তাঁকে শেষবিদায় জানানো হয়।
‘ও আল্লাহ, ও মা’ বলতে বলতে শেষ! শেষ তিন ঘণ্টায় কী ঘটেছিল১৭ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন শামস সুমন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। পরদিন বুধবার সকালে রাজধানীর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর প্রথম জানাজা। এতে সহকর্মী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বহু ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর রাজশাহীতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা শামস সুমন মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—তিন মাধ্যমেই কাজ করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘অহংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘যদি ভালোবাসো’, ‘এই তো আমাদের বাড়ি’, ‘রাতের অতিথি’, ‘অতন্দ্র প্রহর’ ও ‘খোঁজ’। এ ছাড়া ‘জয়যাত্রা’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘চোখের দেখা’ ও ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
নির্মাতা শহিদুল ইসলাম খোকনের ‘স্বপ্নপূরণ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।