লোহাকে সোনায় পরিণত করা গেলেও বিজ্ঞানীরা তা করে না কেন
· Prothom Alo

বিজ্ঞান ও প্রকৃতির রাজ্যে কত যে অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর জিনিস লুকিয়ে আছে, তা বলে শেষ করা যাবে না! সেরকম ১০টি তথ্য নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। দেখুন তো, এখান থেকে কতগুলো তথ্য আপনি জানতেন।
১. মানুষের হৃৎপিণ্ডের অবিরাম পরিশ্রম
মানুষের হৃৎপিণ্ড প্রতিদিন গড়ে এক লাখ বার স্পন্দিত হয় এবং প্রায় ৯ হাজার ৫০০ লিটার রক্ত পাম্প করে। মানবদেহের এই যন্ত্রটির নিজস্ব বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা আছে। অর্থাৎ শরীর থেকে আলাদা করে ফেলার পরও এতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করা গেলে হৃৎপিণ্ড বেশ কিছুক্ষণ একা একাই ধুকপুক করতে পারে!
Visit playerbros.org for more information.
২. ফড়িংয়ের শিকারের নিখুঁত নিশানা
ফড়িং বা ড্রাগনফ্লাই প্রকৃতির অন্যতম সেরা শিকারি, যাদের শিকারের সাফল্যের হার ৯৭ শতাংশ! বাঘ বা সিংহের মতো শিকারিরা শিকারের পেছনে শুধু দৌড়ায়। কিন্তু ফড়িং তার শিকারের ওড়ার গতিপথ আগে থেকেই মস্তিষ্কে হিসাব করে এবং ঠিক সেই জায়গায় গিয়ে তাকে ছোঁ মারে। ফড়িংয়ের চারটি ডানা আলাদাভাবে নড়াচড়া করতে পারে, যা তাদের ওড়ার দিক পরিবর্তনে অবিশ্বাস্য সাহায্য করে।
প্রকৃতির অন্যতম সেরা শিকারি ফড়িং৩. ডুমুর ফলের ভেতরে মরা বোলতা
হ্যাঁ, কিছু ডুমুর ফলের ভেতরে সত্যিই মৃত বোলতা থাকে! এটি প্রকৃতিতে মিথোজীবিতার এক দারুণ উদাহরণ। স্ত্রী বোলতা ডুমুরের ভেতরে ডিম পাড়তে ঢুকে আর বের হতে পারে না। সে ভেতরেই মারা যায়। এরপর ডুমুর ফলটি ফিসেইন নামে একটি এনজাইম দিয়ে ওই মৃত বোলতাকে গলিয়ে প্রোটিনে রূপান্তর করে ফেলে!
বাংলাদেশে নতুন তিন প্রজাতির ফড়িং আবিষ্কারবাঘ বা সিংহের মতো শিকারিরা শিকারের পেছনে শুধু দৌড়ায়। কিন্তু ফড়িং তার শিকারের ওড়ার গতিপথ আগে থেকেই মস্তিষ্কে হিসাব করে এবং ঠিক সেই জায়গায় গিয়ে তাকে ছোঁ মারে।
৪. এআইয়ের বিশাল শক্তির ক্ষুধা
ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৪ মডেলকে ট্রেন করতে প্রায় ৫০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে, যা দিয়ে পুরো সান ফ্রান্সিসকো শহর তিন দিন চলতে পারবে! এআই মডেলগুলোর ডেটা সেন্টার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পানির পাশাপাশি অবিশ্বাস্য পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে, যা বর্তমানে পরিবেশবিদদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৪ মডেলকে ট্রেন করতে প্রায় ৫০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে৫. সবচেয়ে পুরোনো ডিএনএ
এখন পর্যন্ত সিকোয়েন্স করা সবচেয়ে পুরোনো ডিএনএর বয়স ২৪ লাখ বছর। এই ডিএনএগুলো গ্রিনল্যান্ডের চিরহরিৎ বরফের নিচ থেকে পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন আমলের উদ্ভিদ এবং হাতির পূর্বপুরুষদের প্রমাণ। যেহেতু ডিএনএ সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়, তাই জুরাসিক পার্ক মুভির মতো সাড়ে ৬ কোটি বছর আগের ডাইনোসরের ডিএনএ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব।
৬. মানুষের পেটের গ্যাস
একজন সাধারণ মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ১,৫০০ সিসি গ্যাস ত্যাগ করে, তা সে যাই খাক না কেন! সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, এই গ্যাসের ৯৯ শতাংশই কিন্তু গন্ধহীন। যে ১ শতাংশের কারণে বিকট গন্ধ তৈরি হয়, সেটি হলো হাইড্রোজেন সালফাইড, যা পেটের ব্যাকটেরিয়া খাবার ভাঙার সময় তৈরি করে।
যে ডিএনএ টেস্ট ভিলেন বানিয়ে দিয়েছিল একজন মাকেযেহেতু ডিএনএ সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়, তাই জুরাসিক পার্ক মুভির মতো সাড়ে ৬ কোটি বছর আগের ডাইনোসরের ডিএনএ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব।
৭. একবারে ১৫৬টি সাপের জন্ম
স্ত্রী পাফ অ্যাডার নামে একটি সাপ একবারে ১৫৬টি জীবন্ত বাচ্চা জন্ম দেওয়ার রেকর্ড গড়েছে! সাপ সাধারণত ডিম পাড়ে, কিন্তু এরা ওভোভিভিপ্যারাস। অর্থাৎ এরা ডিমগুলো শরীরের ভেতরেই ফোটায় এবং পুরোপুরি পরিণত বিষাক্ত বাচ্চাগুলোর জন্ম দেয়।
৮. কাগজ ভাঁজ করার গাণিতিক চমক
একটি সাধারণ কাগজকে আপনি অর্ধেক করে ১২ বারের বেশি ভাঁজ করতে পারবেন না। কিন্তু কল্পনার খাতিরে যদি একটি কাগজকে ৪২ বার অর্ধেক করে ভাঁজ করা সম্ভব হতো, তবে সূচকীয় বৃদ্ধির কারণে এর উচ্চতা হতো ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ কিলোমিটার!
এই দূরত্ব পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের চেয়েও বেশি! আর ১০৩ বার ভাঁজ করলে তা পুরো দৃশ্যমান মহাবিশ্বের চেয়ে বড় হয়ে যাবে!
সাপ নিয়ে যত সংস্কার-কুসংস্কারমানুষের শরীরে সবচেয়ে ভারী অঙ্গটি হলো আমাদের ত্বক। ত্বক হলো আমাদের শরীরের ইন্টেগুমেন্টারি সিস্টেমের অংশ, যা পুরো শরীরের ওজনের প্রায় ১৬ শতাংশ দখল করে থাকে।
৯. লোহাকে সোনা বানানো সম্ভব
আধুনিক বিজ্ঞানে অন্য মৌলকে সোনায় পরিণত করা সম্ভব, তবে তা পরিমাণে খুব সামান্য। পারমাণবিক চুল্লিতে সিসা বা পারদকে প্রচুর নিউট্রন দিয়ে বোমাবর্ষণ করে সোনা বানানো যায়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় যে পরিমাণ টাকা খরচ হবে, তা উৎপন্ন সোনার দামের চেয়ে কয়েক কোটি গুণ বেশি! তাছাড়া এই সোনা মারাত্মক তেজস্ক্রিয় হয়।
১০. মানুষের শরীরের সবচেয়ে ভারী অঙ্গ
মানুষের শরীরে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা অঙ্গের সংখ্যা ৭৮টি এবং এর মধ্যে সবচেয়ে ভারী অঙ্গটি হলো আমাদের ত্বক। ত্বক হলো আমাদের শরীরের ইন্টেগুমেন্টারি সিস্টেমের অংশ, যা পুরো শরীরের ওজনের প্রায় ১৬ শতাংশ দখল করে থাকে।
মানবদেহের সবচেয়ে ভারী অঙ্গটি হলো আমাদের ত্বকযদি শরীরের ভেতরের বা অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কথা বলা হয়, তবে সবচেয়ে ভারী অঙ্গ হলো যকৃৎ বা লিভার।
লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়, শশিকর, মাদারীপুরসূত্র: লাইভ সায়েন্সমানুষের শরীরের অঙ্গ ৭৮টি নাকি অসীম