ফরিদপুরে পৈতৃক জমির বিরোধে গুলিতে ছোট ভাই নিহত, অস্ত্রসহ কৃষক লীগ নেতা আটক
· Prothom Alo

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি গোলাম কবিরের (৭১) বিরুদ্ধে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়ের পাশে চতুল রেললাইন-লাগোয়া ইটের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
Visit turconews.click for more information.
নিহত ছোট ভাইয়ের নাম মিন্টু মোল্লা (৫৭)। তিনি বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের চতুল গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত গোলাম কবির আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য। পেশায় চিকিৎসক গোলাম কবির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে গোলাম কবির ও মিন্টু মোল্লার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে থানায় একাধিক মামলাও আছে। আজ সকালে মিন্টু মোল্লা বাড়ির পাশের একটি গাছ কাটতে গেলে গোলাম কবির তাঁকে বাধা দেন। তিনি কথা বলার জন্য মিন্টুকে গাছ কাটার জায়গা থেকে একটু দূরে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের পেছনের রেলগেট এলাকায় ডেকে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে গোলাম কবির নিজের লাইসেন্স করা শটগান দিয়ে মিন্টুর গলার নিচে ও বুকে পরপর ছয়টি গুলি করেন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন গোলাম কবিরকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেন। এ সময় তাঁকে মারধরের পাশাপাশি তাঁর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযুক্ত গোলাম কবিরকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর ব্যবহৃত অস্ত্রটিও জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গোলাম কবির আগে সরকারি চাকরি করতেন। অবসরে যাওয়ার পর বর্তমানে ফরিদপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। পাশাপাশি শহরের পূর্ব খাবাসপুর মহল্লায় ‘গোলাম কবির নার্সিং ইনস্টিটিউট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে তাঁর। তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।
এর আগে ২০২৩ সালের ৬ জুলাই গোলাম কবির বোয়ালমারী উপজেলা সদরের চৌরাস্তা-সংলগ্ন খান প্লাজার চতুর্থ তলা ভাড়া নিয়ে ‘গোলাম কবির নার্সিং ইনস্টিটিউট’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাতেন। তখন ভাড়া না দিয়ে ভবন দখল করে রাখার অভিযোগে ওই ভবনের মালিক সালমা বেগমের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। পরে সালমা বেগমকে শটগান দিয়ে গুলি করার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন আটক করে তাঁকে পুলিশে দিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মারামারি, অস্ত্র ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ ফৌজদারি অপরাধের ১২টি ধারায় দুটি মামলা বিচারাধীন।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, গোলাম কবিরের অস্ত্রটি লাইসেন্স করা ও বৈধ।