প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার লড়াই, ‘দম’ যে বার্তা দিল
· Prothom Alo

আবেগ, উত্তেজনা আর অনুভূতির সংমিশ্রণে এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমাটি। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি আফগানিস্তানে এক চরমপন্থী গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হওয়া এক বাংলাদেশির গল্প। তাঁর অদম্য মানসিক শক্তি ও বেঁচে থাকার শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই নিয়েই সার্ভাইভাল ড্রামা ‘দম’। অপহরণকারী ব্যক্তিরা সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র নূরকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। প্রতিকূল মরুভূমি ও পাহাড়বেষ্টিত রুক্ষ পরিবেশে প্রায় খাবার ও পানীয়হীন অবস্থায় নূরের মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার চেষ্টাই এ সিনেমার মূল উপজীব্য বিষয়।
Visit moryak.biz for more information.
প্রথমেই এ সিনেমার ব্যতিক্রমী গল্প বা কাহিনিতে আসা যাক। ‘দম’ সিনেমাটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর গল্প, যা কোনো কাল্পনিক কাহিনি নয়, বরং প্রথম আলোর এক ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত একটি সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। ভারতের দক্ষিণি সিনেমার পরিচালক ব্লেসি ইপি থমাসের ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য গোট লাইফ’ সিনেমার সঙ্গে ‘দম’–এর কস্টিউম ও দৃশ্যগত কিছু মিল থাকলেও গল্প এবং ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে সিনেমা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকের।
‘দ্য গোট লাইফ’ বেনিয়ামিনের বিখ্যাত উপন্যাস ‘আদুজিভিথাম’ অবলম্বনে নির্মিত; পক্ষান্তরে, ‘দম’ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদপত্র প্রথম আলোর একটি ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত সত্য গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়া, ‘দ্য গোট লাইফ’ সৌদি আরবে এক অভিবাসী শ্রমিকের দাসত্ব ও মেষপালক হিসেবে টিকে থাকার গল্প আর অন্যদিকে, ‘দম’ একজন বাংলাদেশির আফগানিস্তানের চরমপন্থী গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি দশা থেকে বেঁচে ফেরার সংগ্রামী কাহিনি। এ ছাড়া, ‘দ্য গোট লাইফ’ সিনেমাটি মূলত জর্ডান ও আলজেরিয়ায় শুটিং করা হয়েছে। অপরদিকে, ‘দম’-এর চিত্রায়ণ হয়েছে কাজাখস্তান ও বাংলাদেশে।
সিনেমার নামকরণটি যথাযথ হয়েছে বলেই মনে হয়। ‘দম’ সিনেমাটির নামকরণের সঙ্গে গল্পের কাহিনি, থিম ও কেন্দ্রীয় চরিত্রের লড়াই গভীরভাবে মিশে আছে। সিনেমার গল্পটি যেহেতু একজন মানুষের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে টিকে থাকার লড়াই, তাই যতক্ষণ শরীরে ‘দম’ বা প্রাণ আছে, ততক্ষণ হার না মানার জেদই এই নামকরণের যথার্থতা। হাড়কাঁপানো শীতে প্রতিকূল মরুভূমির পরিবেশে শাহজাহান ইসলাম নূর যখন সব আশা হারিয়ে ফেলেন, তখন তাঁর ভেতরের অপ্রতিরোধ্য দম বা ইচ্ছাশক্তিই তাঁকে সামনে এগিয়ে নেয়। কেবল শারীরিক নিশ্বাস নয়, বরং মানসিক শক্তির প্রতীক হিসেবেও ‘দম’ সিনেমার নামকরণ গভীর ও অর্থবহ হয়েছে। অন্যদিকে এই সিনেমার নূরের সঙ্গে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সান্টিয়াগোর লড়াকু মানসিকতার অসাধারণ সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
‘দম’–এর ফার্স্ট লুকে আফরান নিশো। চরকির সৌজন্যে‘দম’ সিনেমার দৃশ্যায়ন বা ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন বর্তমান বাংলা সিনেমার মানদণ্ডে কেবল উন্নতই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের যেকোনো সিনেমার সঙ্গে তুলনাযোগ্য। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে কারিগরি দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী বাংলাদেশি সিনেমা, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য পরিচালককেও পথ দেখাবে। কাজাখস্তানের দুর্গম পাহাড় ও মরুভূমির হাড়কাঁপানো শীতের পরিবেশকে ক্যামেরায় অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দর্শকদের দারুণভাবে শিহরিত করেছে। তা ছাড়া ড্রোন শট ও ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্সের ব্যবহারের মাধ্যমে মরুভূমির বিশালতার মধ্যেও নূরের একাকিত্ব ও অসহায়ত্বকে নিপুণভাবে তুলে আনা হয়েছে।
সিনেমার রঙের বিন্যাস বা কালার গ্রেডিং এবং লাইটিংয়ের মাধ্যমে ধূসর, বাদামি ও রুক্ষ টোনের ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি সারভাইভাল ড্রামার গাম্ভীর্য এবং হাহাকার বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। নূরের চরিত্রে অভিনয় করা আফরান নিশোর বিধ্বস্ত লুক, ফাটা ঠোঁট, কাটা গাল ও ধুলোবালিমাখা শরীর কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এমনকি পূজা চেরির মেকআপহীন সাধারণ লুকটিও দৃশ্যায়নের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়েছে। এ সিনেমার কিছু বিশেষ দৃশ্যে ভিজুয়াল ইফেক্টের ব্যবহার এতই সূক্ষ্ম ছিল, যা আলাদা করে বোঝা কঠিন এবং এর ব্যবহার সিনেমার কারিগরি উৎকর্ষকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
শুরু থেকে ‘দম’ সিনেমার গল্পের বয়ান বা ন্যারেটিভ স্টাইলটি মূলত ফার্স্ট পার্সন পয়েন্ট অব ভিউ বা উত্তম পুরুষে আবর্তিত হয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশ ও জিম্মিকারীদের অধিকাংশ কথোপকথনের বাংলা অনুবাদসহ প্রায় পুরো গল্পটাই প্রধান চরিত্র শাহজাহান ইসলাম নূর (আফরান নিশো) এর মাধ্যমে বলানো হয়েছে। এতে করে নূরের ভয়, ক্লান্তি, দীর্ঘশ্বাস, নির্যাতন, আশা ও সংগ্রামসহ প্রতিটি মুহূর্ত দর্শকদের মধ্যে অন্য রকম ইমোশনাল কানেকশন সৃষ্টি করেছে। গল্প বা স্ক্রিপ্টে ব্যবহৃত পশতু বা স্থানীয় ভাষার বেশ কিছু সংলাপ সিনেমাটিকে একটি বৈশ্বিক বা আন্তর্জাতিক আমেজ দিয়েছে।
‘দম’–এর ফার্স্ট লুকে পুজা চেরী। চরকির সৌজন্যে‘দম’ সিনেমার ভাষা ও সংলাপের ব্যবহার অত্যন্ত পরিমিত, বাস্তবসম্মত, চরিত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, স্বল্প সংলাপের চিত্রনাট্য এবং গল্পের মুড বা মেজাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। যেহেতু এটি একটি সারভাইভাল ড্রামা, তাই এখানে প্রধান চরিত্রের শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার ওপর নির্ভর করে স্ক্রিপ্ট সাজানো হয়েছে। নিশোর একাকিত্বের লড়াই, মনোলগ ও ফ্ল্যাশব্যাক টেকনিকের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের দৃশ্যগুলো খুব নিপুণভাবে বুনে দেওয়া হয়েছে, যা সত্যি অসাধারণ। তা ছাড়া এই সিনেমার বড় একটি অংশজুড়ে কোনো সংলাপ নেই। নিশোর ভারী নিশ্বাস, বালিতে পায়ের আওয়াজ ও বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দকে এখানে ‘ভাষা’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকদের সেই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির সঙ্গে একাত্ম করে ফেলেছে।
সিনেমার সাজসজ্জা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য এই সিনেমার পোশাকসজ্জা, মেকআপ ও আউটলুক সারভাইভাল থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। নিশোর পরিহিত আফগানি পোশাক, হাত, কপালে ও চোখের পাশে গভীর ক্ষতের চিহ্নের মাধ্যমে একটি সত্যিকার জিম্মি অবস্থার ভয়াবহতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এদিকে কোনো প্রকার কৃত্রিম মেকআপ ছাড়াই রানী চরিত্রে অভিনয় করা পূজা চেরিকে অত্যন্ত সাধারণ ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের নারী হিসেবে দেখানোর জন্য তাঁর পোশাকে সাধারণ লুক দেওয়া হয়েছে। সিনেমার অন্যান্য চরিত্র যেমন—অস্ত্রধারী সৈনিক বা ঘোড়সওয়ারদের পোশাকসজ্জাতেও একটি রুক্ষ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা গল্পের রহস্যময়তাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে সিনেমার মেকআপ ও পোশাক কেবল সাজসজ্জা নয়, বরং গল্পের আবেগ ও কষ্টকে দর্শকদের কাছে জীবন্ত করে তোলার মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।
‘দম’ সিনেমার গান ও নেপথ্য সংগীত দর্শকদের এক অনন্য আবহ এবং উত্তেজনার অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে। মরুভূমির নির্জনতা, কান্নার হাহাকার, বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ, গুলির শব্দ ও নিশোর ভারী নিশ্বাসের শব্দগুলোর সঙ্গে এরাবিয়ান নেপথ্য সংগীত এমনভাবে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে দর্শক হলে বসেও সেই অস্থিরতা অনুভব করে। গল্পের থমথমে পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহৃত বেহালা ও সেতারের করুণ সুর শাহজাহান ইসলাম নূর (আফরান নিশো)-এর মানসিক যন্ত্রণাকে আরও মর্মান্তিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। জিম্মি দশা থেকে পালানোর উত্তেজনাকর দৃশ্যগুলোতে দ্রুত তালের ড্রাম ও ইলেকট্রনিক বিট ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে দর্শকদের মধ্যে একটা দমবন্ধ করা মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।
‘দম’–এর ফার্স্ট লুকে চঞ্চল চৌধুরী। চরকির সৌজন্যেনূরের সঙ্গে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জিম্মিকারী ইজাজের লড়াইটা আমাদের একাত্তরের রণাঙ্গনের মতো বাঙালির বীরত্বকে আবারও মনে করিয়ে দিল, যা নতুন প্রজন্মের দর্শকদের স্বদেশপ্রেমে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ‘আমি শাহজাহান ইসলাম নূর, আমি মুসলমান, আমি বাংলাদেশি’ সংলাপ আমাদের গভীরভাবে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে।
‘দম’ সিনেমার মাধ্যমে রেদওয়ান রনিরা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যুদ্ধকে নিরুৎসাহিত করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছেন। সিনেমা নির্মাণের প্রায় সব দিক দিয়ে ‘দম’ সিনেমাটি বেশ সাফল্য ও মুনশিয়ানা দেখালেও সিনেমার প্রথমার্ধটা কিছুটা ধীর গতি মনে হয়েছে। তবে সারভাইভাল মুভি হিসেবে কোথাও কোথাও গল্পের উত্তেজনা একটু কমে গেলেও নিশোর অনবদ্য অভিনয়ের দাপটে সিনেমার শ্লথ গতি সহসা আড়ালেই পড়ে গেছে।
এ সিনেমায় হাস্যরস বা আনন্দদায়ক দৃশ্যের অভাব থাকায় টানা সিরিয়াস ও করুণ দৃশ্যগুলো দর্শকদের জন্য মাঝেমধ্যে একঘেয়ে বা ক্লান্তিকর হয়েছে বলে মনে হতে পারে। তা ছাড়া এ সিনেমার কিছু দৃশ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ করা হয়েছে এবং মরুভূমিতে নূরের একাকী সংগ্রামের কিছু দৃশ্য পুনরাবৃত্তিমূলক মনে হয়েছে, যা মূল গল্পের গতিকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
এদিকে সিনেমার পটভূমি আফগানিস্তান হলেও গল্পটি কোন সময়কে প্রতিনিধিত্ব করেছে, সেটা দেখানো হয়নি। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোতে প্রায়শই গল্পের পটভূমির পাশাপাশি ঘটনার সময়কাল সম্পর্কে দর্শকদের ধারণা দেওয়া হয়।
এই সিনেমার সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো, শেষের দৃশ্যে ছিল না কোনো প্রত্যাশিত নাটকীয়তা। পুরো সিনেমা নির্মাণে পরিচালক যে মাত্রার মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন, সে হিসেবে সিনেমার শেষ অংশটা আরও আকর্ষণীয় ও নাটকীয় করতে পারতেন।
সারভাইভাল সিনেমা হিসেবে এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র নিশোর অভিনয় সত্যিকার অর্থেই মাস্টারক্লাস হয়েছে। এ সিনেমায় তিনি চরিত্রটির মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ঢুকে গেছেন এবং চরিত্রের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করেছেন। তাঁর প্রতিটি চাহনি, প্রতিটি বিরতি, প্রতিটি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সূক্ষ্ম, উদ্দেশ্যমূলক ও শক্তিশালী মনে হয়েছে, যা ধীরে ধীরে তাঁর অভিনয়ের পরিপক্বতার প্রমাণ দিচ্ছে। নিশোর হৃদয়স্পর্শী অভিনয়ের পাশাপাশি পূজা চেরি সম্ভবত ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয়টা এই সিনেমায় করেছেন।
‘দম’ কেবল একটি বিনোদনমূলক সিনেমা নয়, এটি আবেগঘন ও সাহসী যাত্রা। তথাকথিত বাণিজ্যিক ফর্মুলার বাইরে গিয়ে একটি জীবনমুখী ও জীবন বাঁচানোর গল্প যে দর্শকদের হলে টানতে পারে, ‘দম’ তার একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।
এদিকে সিনেমার পটভূমি আফগানিস্তান হলেও গল্পটি কোন সময়কে প্রতিনিধিত্ব করেছে, সেটা দেখানো হয়নি। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোতে প্রায়শই গল্পের পটভূমির পাশাপাশি ঘটনার সময়কাল সম্পর্কে দর্শকদের ধারণা দেওয়া হয়।
এই সিনেমার সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো, শেষের দৃশ্যে ছিল না কোনো প্রত্যাশিত নাটকীয়তা। পুরো সিনেমা নির্মাণে পরিচালক যে মাত্রার মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন, সে হিসেবে সিনেমার শেষ অংশটা আরও আকর্ষণীয় ও নাটকীয় করতে পারতেন।
সারভাইভাল সিনেমা হিসেবে এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র নিশোর অভিনয় সত্যিকার অর্থেই মাস্টারক্লাস হয়েছে। এ সিনেমায় তিনি চরিত্রটির মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ঢুকে গেছেন এবং চরিত্রের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করেছেন। তাঁর প্রতিটি চাহনি, প্রতিটি বিরতি, প্রতিটি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সূক্ষ্ম, উদ্দেশ্যমূলক ও শক্তিশালী মনে হয়েছে, যা ধীরে ধীরে তাঁর অভিনয়ের পরিপক্বতার প্রমাণ দিচ্ছে। নিশোর হৃদয়স্পর্শী অভিনয়ের পাশাপাশি পূজা চেরি সম্ভবত ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয়টা এই সিনেমায় করেছেন।
‘দম’ কেবল একটি বিনোদনমূলক সিনেমা নয়, এটি আবেগঘন ও সাহসী যাত্রা। তথাকথিত বাণিজ্যিক ফর্মুলার বাইরে গিয়ে একটি জীবনমুখী ও জীবন বাঁচানোর গল্প যে দর্শকদের হলে টানতে পারে, ‘দম’ তার একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।