এক দিনে দুই মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান গতকাল শুক্রবার পৃথক দুই ঘটনায় ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। একটি বিধ্বস্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালির কাছে পারস্য উপসাগরে। এটি এ-১০ মডেলের একটি যুদ্ধবিমান। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের মধ্যাঞ্চলে এফ-১৫ই মডেলের আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়।

Visit mchezo.life for more information.

ইরানের দাবি সত্য হলে, তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হবে। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার দাবি করেছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের এমন দাবির মধ্যে মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে পারাটা ইরানের জন্য বিরাট সাফল্য।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান শুক্রবার অন্তত পাঁচটি মার্কিন হেলিকপ্টারে আঘাত হেনেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত ইরানের দাবির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘না, মোটেও না। এটা তো যুদ্ধ।’

এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান এ–১০। লাটভিয়ার আদাজি সামরিক ঘাঁটিতে, ২৭ মে ২০২২

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের এ-১০ মডেলের একটি যুদ্ধবিমানে আঘাত করে। পরে বিমানটি হরমুজ প্রণালির কাছে বিধ্বস্ত হয়।

বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিল একটি এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান। সেটিও হামলার শিকার হয়েছে।

তবে ইরানের দাবি করা বিমানটি এবং সিবিএসের উল্লিখিত বিমানটি একই কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উদ্ধার অভিযানেও হামলা

সিবিএসের প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, বিধ্বস্ত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দুই আরোহীর (পাইলটের) একজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুটি মার্কিন বিমান হামলার মুখে পড়েছে। এ সময় এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমানটি আক্রান্ত হলে পাইলট সাগরে ঝাঁপ দেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে থাকা দুটি হেলিকপ্টারের একটিতে ছোট অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারটিতে থাকা কয়েকজন ক্রু আহত হন। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এফ-১৫ই বিমানের দ্বিতীয় আরোহীর (পাইলটের) খোঁজে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।

দক্ষিণ ইসরায়েলের হাতজেরিম বিমান ঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর পাইলটদের স্নাতক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উড্ডয়নরত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। ২৯ জুন ২০২৩

নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমান ভূপাতিতের দাবি

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণে বলেন, নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, ইরানের নিজস্ব ‘নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ ব্যবহার করে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইরানের এ কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর এ দাবি মিথ্যা। মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি তার প্রমাণ।

ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, ‘কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি উন্নত শত্রু যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। সেটি কেশম ও হেনগাম দ্বীপের মাঝামাঝি জলসীমায় বিধ্বস্ত হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের কোন যুদ্ধবিমানটি নিজস্ব ‘নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ ব্যবহার করে ধ্বংস করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি ইব্রাহিম জুলফাগারি। কিন্তু তাঁর বর্ণনা থেকে মনে হয়, তিনি এ-১০ মডেলের মার্কিন যুদ্ধবিমানের কথা বলছেন। কারণ এটি হরমুজ প্রণালির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে।

Read full story at source